-->

অক্ষয় তৃতীয়া ব্রত কথা । Akshaya tritiya brata | अक्षय तृतीया व्रत कथा

অক্ষয় তৃতীয়া ব্রত কথা । Akshaya tritiya brata | अक्षय तृतीया व्रत कथा:  অক্ষয় তৃতীয়া ব্রত বাংলার হিন্দুসমাজের অশাস্ত্রীয় ব্রতগুলির অন্তর্গত একটি ব্রত। গ্রামীণ বাংলার বাঙালি হিন্দুঘরের পুরুষ এবং মহিলারা সর্বসুখের অধিকারী হতে এবং মৃত্যুর পর বৈকুণ্ঠবাসের সৌভাগ্যলাভ করতে এই ব্রত পালন করেন। এটি বৈশাখ মাসের শুক্লপক্ষে অক্ষয় তৃতীয়া তিথিতে পালন করা হয়। পরপর আট বছর ব্রতটি উদ্‌যাপন করতে হয়।



Akshaya tritiya brata


ব্রতের নিয়ম

অক্ষয় তৃতীয়া ব্রত পালনের প্রথম পর্যায়ে প্রয়োজনীয় উপকরণ অর্থাৎ নতুন কাপড়, কলসীযবভুজ্জি, তালপাতার পাখা ও গামছা সংগ্রহ করতে হয়। দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রথমে যব দিয়ে লক্ষ্মী-নারায়ণ পূজা করতে হয়। তারপর ভুজ্জি, জলভরা কলসী, তালপাতার পাখা,গামছা বা নতুন কাপড় ব্রাহ্মণকে প্রদান করতে হয়।


অক্ষয় তৃতীয়া ব্রত

এই ব্রত পালনের মাস - বৈশাখ মাস

নারী-পুরুষ নির্বিশেষে এই ব্রত পালন করা যায়। নারী, পুরুষ উভয়েই এই ব্রত পালন করতে পারে। ব্রতকথা : একদা যুধিষ্ঠির (ধর্মরাজ) শতানিক মুনির কাছে অক্ষয় তৃতীয়ার মাহাত্ম্য কথা শুনতে চেয়েছিলেন। যুধিষ্ঠিরের অনুরোধে শতানিক মুনি বলেছিলেন সেই মাহাত্ম্য কথা।


অনেকদিন আগে একজন রাগী, কৃপণ, বদমেজাজী, নিষ্ঠুর, অধার্মিক ব্রাহ্মণ ছিলো। সে কোনোদিন কাউকে সাহায্য করেনি। তবে তাঁর বউ কিন্তু ছিলো খুবই ধর্মপ্রাণা মহিলা। তার বউ এর নাম ছিলো সুশীলা। একদিন এক পথিক ব্রাহ্মণ ক্ষুধার্ত হয়ে এই ব্রাহ্মণ পরিবারে আসে একমুঠো অন্ন ও জলের জন্য। কিন্তু এই বদমেজাজী নিষ্ঠুর ব্রাহ্মণ তাকে এক ফোঁটা জলও দিতে চায়নি। তাকে বাজে বাজে কথা বলে তাড়িয়ে দিচ্ছিল। এমন সময় তার স্ত্রী সুশীলা এসে সেই ব্রাহ্মণের পথরোধ করে বলে তিনি যেন চলে না যান কারণ, তিনি অতিথি। তাঁকে সেবা করাই হল তাদের ধর্ম। এরপর সুশীলা তার স্বামীকেও কড়া ভাষাতে নিন্দা করে এবং তার স্বামীর খারাপ ব্যবহারের জন্য সে সেই পথিক ব্রাহ্মণের কাছে ক্ষমা চায়। তারপর বাড়ীর ভিতর থেকে একমুঠো অন্ন ও জল এনে দেয় তাকে। বৈশাখ মাসের শুক্লা তৃতীয়াতে ক্ষুধার্তকে এই অন্নজল দানে তার পুন্যির ভাণ্ডার ভরে ওঠে ও এই দান অক্ষয় হয়ে থাকে।


এই ঘটনার বেশ কিছুদিন পর সুশীলার স্বামীর মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুর পর যমদূতরা তাকে নরকে নিয়ে যায় ও তার কুকর্মের জন্য অকথ্য অত্যাচার চালায়। যমদুতেদের অত্যাচারে সে জলের জন্য কাতর হয়ে ওঠে। কিন্তু যমদূতরা তাকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে সেও একসময় এক ক্ষুধার্ত-তৃষ্ণার্ত অতিথিকে জলদান করতে অস্বীকার করেছিলো। তাই এখন তারাও তাকে জল দেবে না কারণ তাকে প্রায়শ্চিত্ত করতে হবে। এইভাবে অত্যাচারের পর যমদূতরা তাকে যমরাজার কাছে নিয়ে গেলো। তখন যমরাজ তাকে ছেড়ে দিতে বলল কারণ তার স্ত্রী সুশীলা ক্ষুধার্ত তৃষ্ণার্ত সেই অতিথিকে অন্ন-জল দান করে যে পুনা সঞ্চয় করেছিলো তা এই ব্রাহ্মণকে ছুঁয়েছে। সে পত্নীর পুন্যিতে মুক্তি পাবে। কারণ বৈশাখ মাসের শুক্লা তৃতীয়াতে যে অতিথিকে অন্ন-জল দান করে তার বৈকুণ্ঠলাভ হয়ে থাকে। তারপর যমদূতরা তাকে ছেড়ে দেয়।

ব্রতফল: যে সমস্ত পুরুষ ও মহিলারা এই ব্রত পালন করে থাকেন তাঁরা মৃত্যুর পর পরম আনন্দে বৈকুণ্ঠে যেতে পারেন। এটি একটি পুন্যিব্রত হিসাবেই খ্যাত।

You May Like Also Also Like This

Post a Comment

0 Comments