-->

শ্রীশ্রী হরিনাম মহাযজ্ঞের করণীয় কাজ | Harinaam Sankirtan

হরিনাম কীর্তন মালয়ালম ভাষায় মধ্যযুগীয় ভক্তিমূলক ও দার্শনিক পাঠ্য। এর স্বত্ব ইংরেজিতে অনুবাদ করলে হয় "পবিত্র নাম হরির গান"। এটি ষোড়শ শতাব্দীর দিকে কেরালার থুঞ্চাথু রামানুজন এজুথাচান দ্বারা রচিত হয়েছিল।

শ্রীশ্রীহরিনাম মহাযজ্ঞের করণীয় কাজ

শ্রীশ্রীহরিনাম যজ্ঞের আয়োজন

ভগবান শ্রীকৃষ্ণের অন্তহীন নাম ও অনন্ত মহিমা। সাধারণভাবে ঐ নামগুলিতে বত্রিশ প্রহর, চব্বিশ প্রহর, ষোল প্রহর ও অষ্টম প্রহর প্রভুর সেবার্চনা করা হয় ও অখণ্ড নাম কীর্তন হয়। কোন কোনও স্থানে পরম ভক্ত বৈষ্ণবগণ একবর্ষ বা বহুবর্ষব্যাপী শ্রীশ্রীনামযজ্ঞের অনুষ্ঠান করে থাকেন। যে ভক্ত বৈষ্ণব হরিনাম যজ্ঞে ব্রতী হবেন, তিনি যেন সদাচারী বৈষ্ণব বা প্রভুবংশ সদ্ভুত বা কৃষ্ণমন্ত্র উপাসক, বিশুদ্ধাচারী ব্রাহ্মণ হ'ন। তিনিই মহাপ্রভু কৃষ্ণচৈতন্যের অধিবাস অর্চনাদি ও ভোগাদি শাস্ত্রসম্মত ভাবে করবেন। তার কারণ মহাপ্রভু শ্রীগৌরাঙ্গ অবৈষ্ণব বিরুদ্ধবাদী ছিলেন।

শ্রীশ্রীহরিনাম মহাযজ্ঞের করণীয় কাজ

  • নামযজ্ঞ আরম্ভের দিন অথবা তার পূর্বদিন স্থানীয় বা দূরবর্তী স্থানের কীর্তনীয়াগণকে ও ভক্ত বৈষ্ণবগণকে এই শ্রীশ্রীহরিনাম যজ্ঞে আবাহন করবেন বিনয় সহকারে।
  • যজ্ঞারম্ভের পূর্বদিন সন্ধ্যারতি সমাপন করে শুভ অধিবাস করবেন। তারপর নাম যজ্ঞ পূর্ণ হলে মহোৎসবের আয়োজন করবেন।
  • অধিবাস-সুগন্ধযুক্ত পুষ্পমালা দিয়ে উপাস্য দেবতাকে সুশোভিত ও সেই উপলক্ষে নাম গান। নাম যজ্ঞ আরম্ভের আগেই শ্রীশ্রীরাধাকৃষ্ণ ও শ্রীশ্রীগৌরাঙ্গ, নিত্যানন্দ, অদ্বৈত, গদাধর ও শ্রীবাসের সাতটি মূর্তি স্থাপন ও যথাবিধি পূজা করবেন।
  • যে পবিত্র স্থানে শ্রীশ্রীহরিনাম যজ্ঞের অনুষ্ঠান করা হবে, সেই স্থানে পাঁচ হাত পরিমাণ একটি বেদী প্রস্তুত করবেন। বেদীর উচ্চতা একহাত ও চারদিকে সমান চার কোণা যেন হয়। উক্ত চারটি কোণে চারটি বাঁশ ও চারটি কলাগাছ পুঁতে, চারটি জলপূর্ণ সুসজ্জিত মঙ্গল ঘট বসিয়ে তার উপর আম্রপল্লব ও সশীয ডাব দিয়ে গামছা দিবেন। চারকোণের চারটি বাঁশে ফুল, পাতা ও পতাকা দিয়ে তোরণ তৈরী করবেন, উপরে একটি চন্দ্রাতপ অর্থাৎ আচ্ছাদন দিবেন।
  • এইভাবে সব সাজিয়ে শ্রীরাধাকৃষ্ণাদির চিত্রপট বা বিগ্রহগুলির শ্রীমূর্তি পূর্বাদি ক্রমে স্থাপন করে এই সপ্ততত্বকে ধুতি চাদর ও শাড়ী দেবার নিয়ম। সাধ্য না হলে জোড় দেওয়ার বিধি আছে।
  •  সপ্ততত্ত্বের বামদিকে শ্রীবৃন্দাদেবী অর্থাৎ তুলসীর টব নতুন বস্ত্র দিয়ে স্থাপন করবেন ও মাল্যাদি দিবেন।
  • মণ্ডপের উপরে যেখানে সপ্ততত্বের পূজার্চনা হবে, সেখানে শ্রীশ্রীরাধাকৃষ্ণের ও নারায়ণের জন্য বিশুদ্ধ আসন বা বিশুদ্ধ নতুন বস্ত্র পৃথকভাবে ও পঞ্চতত্বের জন্য পাঁচটি আসন পৃথকভাবে পেতে দিবেন। ঐ আসনে পুষ্পাঞ্জলি দেবার বিধি। প্রতিটি আসনের উপরে গোটা পান, সুপারী, সুপক্ক কদলী ও পেত। একটি করে দিবেন। তারপর সাধ্য অনুসারে দক্ষিণা দিবেন। পূজার জন্য বেদীর কাছে ফুল, ফুলমালা, তুলসী, চন্দন, ধুনা ইত্যাদি রাখবেন। অধিবাসের সময় বেদীর নীচে সামনে একটি হাঁড়ির মধ্যে যজ্ঞপ্রদীপ জ্বালিয়া তৈলপূর্ণ করবেন। এবং সরা একটি দিয়ে কিছুটা ঢাকা দিবেন, যেন নিভে না যায়। এই যজ্ঞ প্রদীপ নাম সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত জ্বলবে।

মৃদঙ্গ বা খোলমঙ্গল


 পূজক আসনের উপর মৃদঙ্গ (খােল), করতাল, তুরী ও শিঙ্গা প্রভৃতি রেখে ওতে ফুলের মালা, চন্দন ও গন্ধাদি দ্বারা সাজাবেন।

কুম্ভে শ্রীভগবৎ পূজা

  •  একমুঠো যব বা একমুঠো ধানের উপর ঘট বসিয়ে চন্দন, অগুরু ও কপূর মেশানো জলে ঐ ঘট পূর্ণ করবেন। তারপর ঘটের উপরে সাতটি পাতাযুক্ত একটি আম্রপল্লব দিয়ে তার উপর সশীষ ডাব দিবেন। ঘটের গায়ে ঘৃত দ্বারা সিন্দুর গুলে মূর্ত্তি আঁকবেন। এবার উক্ত ঘটটি মালা ও চন্দনাদি দিয়ে সুসজ্জিত করে সাদা কাপড়ে (ধুতিতে) আচ্ছাদিত করে রাখবেন। যে দেবতার অর্চনা করা হবে তাঁর ঘটস্থাপন উপরোক্ত নিয়মে করে প্রথমে সেই ঘটের উপর সেই দেবতার অর্চনা করা হবে। তাঁকে প্রথমে পাদ্য, অর্ঘ্য, মধুপর্ক, স্নান, বস্ত্র দিয়ে পূজা হবে। কৃষ্ণ বিষয়ক ভিন্ন যদি অন্য দেবতা হ'ন তা হলে সবার আগে তাঁকে 'পাদ্য, অর্ঘ্য ইত্যাদি দিতে হবে। পূজক নিজের সন্ধ্যাহ্নিক করার সময় শ্রীগুরুর পূজা করবেন। সপ্ততত্বের ভোগের পর প্রসাদ বিতরণ করবেন।
  • কুম্ভে অর্থাৎ ঘটে যথানিয়মে মূলমন্ত্র দ্বারা শ্রীমূর্তি চিন্তা করে পুষ্পাঞ্জলি নিয়ে সেই পুষ্পাঞ্জলিতে প্রবহমান নাসাপুটে দ্বারা হৃদয় মধ্যস্থ কৃষ্ণরূপী তেজ হাতের পুষ্পে এনে সেই তেজ কুম্ভে স্থাপন করবেন। পরে পাদ্যাদি দ্বারা পূজা সমাপন করবেন।
  • ভোগদানের পর আরত্রিক করে যে নাম পরের দিন গীত হবে, সেই নাম দ্বারা সাতবার বেদী পরিক্রমা করবেন।
  •  পরদিন সূর্য্যোদয় হবার পূর্বে মঙ্গল আরতির পর থেকে শ্রীশ্রীনামযজ্ঞজ্ঞ আরম্ভ করে পরদিন মঙ্গল আরতির পর পর্যন্ত নাম কীর্তন করবেন।

You May Like Also Also Like This

Post a Comment

0 Comments


Advertisement