-->

রাধাষ্টমী ব্রত - Radha Ashtami Barata Katha in Bengali

রাধাষ্টমী ব্রত (Radha Ashtami ) বাংলার হিন্দুসমাজের মেয়েলি ব্রতগুলির অন্তর্গত একটি ব্রত। বাংলার বাঙালি হিন্দুঘরের (প্রধানত বৈষ্ণব মতাবলম্বী) মহিলারা সাংসারিক সুখশান্তি ও মঙ্গলকামনায় এই ব্রত পালন করেন। এটি ভাদ্র মাসের শুক্লপক্ষে রাধাষ্টমী তিথিতে শ্রীরাধিকার পূজার অংশ হিসাবে পালন করা হয়।  


রাধাষ্টমী ব্রত

ব্রতের দ্রব্য: শাড়ী, মধুপর্ক বাটি, আসনাঙ্গুরীয়, নৈবেদ্য, ধূপ, দীপ, ধুনা, ফুল, তুলসী, দুর্বা, বেলপাতা, দক্ষিণা। 

ব্রতের ফল: —এই ব্রত করলে নর-নারী সর্বপ্রকার পাপ-মুক্ত হয়।

ব্রতের কথা: -ঋষি শৌনক মহামতি সুতকে জিজ্ঞাসা করলেন—হে সুত! অন্যান্য দেবতাদের উপাসনার চেয়ে শ্রীকৃষ্ণের আরাধনাই শ্রেষ্ঠ বলে জানি। আরও শুনেছি, তাহাপেক্ষা শ্রীমতী রাধা আরাধনা অধিকতর পুণ্যপ্রদ ও শ্রেষ্ঠ। অতএব শ্রীরাধার অর্চনা বিষয়ে কোনও ব্রতাদির কথা বলুন।

সূত বললেন-হে ঋষিগণ! আমি একটি গােপনীয় ব্রতের কথা বলছি শুনুন। একদিন দেবর্ষি নারদ শ্রীকৃষ্ণের নিকটে উপস্থিত হয়ে জিজ্ঞাসা করলেন—ভগবান্‌। আপনার শ্রীমুখে অনেক ব্রতের কথা শুনেছি, এখন শ্রীমতী রাধিকার জন্মদিনের ব্রত শুনতে ইচ্ছা করি।

শ্রীকৃষ্ণ বললেন-দেবর্ষি! তুমি আমার পরম ভক্ত। সেজন্য তােমার কাছে বলছি, শ্ৰবণ কর।

কোনও এক সময় সূর্যদেব ত্রিলােক ভ্রমণ করতে করতে নানাপ্রকার ঐশ্বর্য দেখে মনে মনে তপস্যার সঙ্কল্প করে, মন্দর পর্বতের গুহায় কঠোর তপস্যা আরম্ভ করলেন। এইরূপে দীর্ঘদিন গত হলাে। সূর্যের কঠোর তপস্যা আর পৃথিবী অন্ধকারাচ্ছন্ন থাকায় দেবতারা ভীত হলেন। ইন্দ্র দেবগণসহ আমার কাছে এসে সবকথা বলতে, আমি বললাম, দেবগণ! সূর্য থেকে তােমাদের কোনও ভয় নাই। তােমরা নিজ নিজ স্থানে যাও। আমি সূর্যদেবকে তপস্যা থেকে ক্ষান্ত করবাে।

তারপর আমি সূর্যের কাছে গেলাম। সূর্য আমাকে দেখে খুব আনন্দিত হলেন। তিনি বললেন-হে শ্ৰীহরি! আপনার দর্শন পেয়ে আমার জন্ম ও তপস্যা সার্থক হলো। যিনি সৃষ্টি স্থিতি সংহার কর্তা, ব্রহ্মা-বিষ্ণু-মহেশ্বর যাকে সব সময় চিন্তা, করেন তাকে দর্শন করে আমি ধন্য হলাম।

আমি সন্তুষ্ট হয়ে সূর্যকে বললাম—হে দিবাকর। তুমি তপস্যায় সিদ্ধিলাভ করেছ। এখন বর প্রার্থনা কর। তুমি আমার পরম ভক্ত, সেজন্যই তােমাকে দর্শন দিলাম। এই কথা শুনে সূর্য বললেন-আমাকে একটি গুণবর্তী কন্যার বর দিন। আপনি চিরদিন সেই কন্যাটির বশীভূত থাকবেন। এছাড়া আমার আর কোনও ইচ্ছা নাই।

আমি তথাস্তু বলে তাকেবললাম—এই ত্রিলােকে আমি একমাত্র শ্রীরাধিকারই বশীভূত। শ্রীমতী রাধা এবং আমাতে কোনও প্রভেদ নাই। আমি পৃথিবীর ভার লাঘবের জন্য বৃন্দাবনে নন্দালয়ে অবতীর্ণ হবাে। তুমিও সেখানে বৃষভানু নামে রাজা হয়ে জন্মগ্রহণ করবে। শ্রীমতী রাধা তােমার কন্যারূপে অবতীর্ণ হবে। তারপর শ্রীহরি মথুরায় জন্মগ্রহণ করে নন্দালয়ে এলেন। সূর্যদেব বৈশ্যকুলে জন্মগ্রহণ করে বৃষভানু রাজা হলেন।

গােপকন্যা কীর্তিদার সঙ্গে তার বিবাহ হলাে। যথাকালে ভাদ্র মাসের শুক্লপক্ষে অষ্টমী তিথিতে বিশাখা নক্ষত্রে কীর্তিদার গর্ভে শ্রীমতী রাধিকা জন্মগ্রহণ করলেন। গােপ-গােপীরা আনন্দোৎসবে মেতে উঠলাে। আমার মায়ায় মুগ্ধ হয়ে রাধিকা আমাকেই পতিত্বে বরণ করতে ইচ্ছা করলেন। যথাকালে আয়ান ঘােষের সঙ্গে শ্রীরাধার বিবাহ হলাে বটে, কিন্তু আমাকে পরম পুরুষনে আমার সঙ্গে বিহার করতে লাগলেন। 

শ্রীমতী রাধার এই জন্মদিনে গন্ধ, পুষ্প, ধূপ, দীপ, নৈবেদ্য ও বসন-ভূষণ দ্বারা শ্রীমতী রাধার পূজা করে, নানা প্রকার মহােৎসব, ক্রীড়া কৌতুকাদি করতে হয়। রাধার সখীবৃন্দ, গােপিকাবৃন্দ, কীর্তিদা, বৃষভানু, প্রভৃতিরও পূজাতে হয়। তারপর ব্রতকথা শুনে সেদিন উপবাসী থেকে পরদিন বৈষ্ণবদের সঙ্গে পারণ করতে হয়। রাধা নামের সঙ্গে কৃষ্ণ নাম যােগ করে জপ করলে যাবতীয় মন্ত্র জপের ফল লাভ হয়। তপ-জপে আমার যেমন সন্তোষ জন্মে, একবার রাধানাম উচ্চারণ করলে তার চেয়ে সহস্রগুণ বেশী আমি সন্তোষ লাভ করি।

এই ব্রতের অনুষ্ঠানে সর্বদুঃখ দূর হয় ও পরম শান্তিলাভ হয়। ধনৈশ্বর্যে গৃহ পূর্ণ হয় এবং সর্বস্থানে বিজয় লাভ হয়। ভক্তের কাছে এই ব্রতের কথা বললে সমস্ত অমঙ্গল দূর হয়, কিন্তু ভণ্ড, পাষণ্ড, ভক্তিহীন নাস্তিকের কাছে প্রকাশ করলে অমঙ্গল হয়। শ্রীকৃষ্ণের কাছে এই কথা শুনে নারদ মর্ত্যে এই ব্রত প্রচার করলেন আর নিজেও ব্রতপালন করলেন।

Read This: শনিদেবের ব্রতকথা - Shani Dev Brata Katha in Bengali

source: Internet

You May Like Also Also Like This

Post a Comment

0 Comments