-->

জিতাষ্টমী ব্রত | জিতাষ্টমীর সময় । জিতাষ্টমী ব্রতের দ্রব্য | Jitiya Ashtami Brata Katha

সময় : আশ্বিন মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে সারাদিন উপবাস থেকে সন্ধ্যার সময়। জীমূতবাহনের পূজা করতে হয়। এই ব্রত করতে নিঃসন্তানের সন্তানলাভ হয়ে থাকে। সধবা স্ত্রীলোক সন্তান হওয়ার কামনা করে এই মহতী ব্রত করতে পারে।

Jitiya Ashtami Brata Katha


ব্রতের দ্রব্য : বিবিধ ফলমূল, ভিজে মটরকড়াই, আতপচাল, ধূপ, দীপ, নৈবেদ্য, ফুল ইত্যাদি। বিধানঃ আশ্বিন মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে বাড়ীর উঠানে একটি পুকুর কাটতে হবে। তার মাঝে একটি কলাগাছ ও একটি বেলগাছ পুঁতে দিতে হবে। তারপর সারাদিন উপোষ করে থেকে সন্ধ্যাবেলায় জিমুতবাহনের পূজা করতে হবে। তাতে মটর কড়াই ও ফলের নৈবো দিতেই হবে। পূজার শেষে সেই প্রসাদ ব্রতী নিজে খাবে ও অপরকে খাইয়ে ব্রতকথা শুনবে।

 জিতাষ্টমী ব্রত

ব্রতকথা: একদা শালিবাহন নামে একজন রাজা ছিলেন। তিনি ছিলেন খুব নিষ্ঠাবান ও তাঁর প্রচুর ঐশ্বর্যা ছিল কিন্তু কোন সন্তান-সন্ততি ছিল না। সেকারণে রাজা রাণীর মনে কোন শাস্তি ছিল না। সন্তান কামনায় রাজা বহুবিধ যজ্ঞ করতে একদিন রাণী রাতে ঘুমঘোরে স্বপ্ন দেখলেন এক দেবতা হংসবাহনে এসে তাঁকে বলছেন, “তুমি জিতাষ্টমী ব্রত কর, তাহলে তোমার সন্তান-সন্ততি লাভ হবে। ঘুম ভাঙার পর রাজাকে রাণী সব কথা জানালেন। রাজাও খুশী হয়ে ব্রত করার জন্য রাণীকে প্রস্তুত হতে বললেন।


ক্রমে আশ্বিন মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথি উপনীত হল। রাজার আদেশমন উঠানে পুকুর কাটিয়ে কলাগাছ ও বেলগাছ পুঁতে দেওয়া হল। রাণী ও ব্রতের প্রথা মত সারাদিন উপবাস থেকে সন্ধ্যাকালে মটর বড়াই ও ফলের নৈবেদ্য দিয়ে জীমূতবাহনের পূজা করলেন, নিজে প্রসাদ খেয়ে অন্যান্য সবাইকে খাইয়ে ছিলেন। পরদিন সকালে উঠে রাণী স্নান করে আসার সময় সেই পুকুরের কাছে গিয়ে নিয়মিত পুজো করলেন ও পুত্র সন্তানের জন্য মানসিক করে আসেন। এভাবে কিছুকাল অতিবাহিত হওয়ার পর রাজা শালিবাহনের এক পুত্র হয় তার নাম রাখেন জীমূতবাহন

আর একটি কন্যা হলে তার নাম রাখল সুশীলা। জীমূতবাহন বিয়ের যোগ্য হলে তাকে একটি সুন্দরী বন্যা দেখে বিয়ে দেওয়া হল। পুত্রবধূ খুবই ভাল হয়েছে, তবে দুঃখের বিষয় তাঁর কোন সন্তান-সন্ততি নেই। কয়েকটি ছেলেমেয়ে হয়ে। তারা মারা গেছে। শাশুড়ী নিয়মমত উঠানে পুকুর কেটে জিন্তাষ্টমীর ব্রত করবার জন্য বলেন, কিন্তু তার পুত্রবধূ কোন কথা শোনে না। কেবল ব্রতকথা শুনে হাসে আর উপহাস করে। সে এই ব্রত বিশ্বাস করত না বলেই তার ছেলে হয়ে মারা যেত। ব্রতের উপহাসের ফল যে কি বউটা তা বিশ্বাস করতে পারত না।


এরূপ ভাবে সময়-মাস ও বছর চলে যেতে থাকে। একদা আশ্বিন মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথি এসে গেল। শ্বাশুড়ী তখন বউকে ডেকে বললেন—“এসো বউমা, আমরা দু'জনে মিলে জিতাষ্টমী ব্রত করি।” সে কথা শুনে বউ হেসে অস্থির। বউ বলে - “আমি ওসব মানি না বা বিশ্বাস করি না। কিন্তু শ্বাশুড়ী শোনবার নন, তিনি তাঁকে অনেক কথা বলে বুঝিয়ে সুঝিয়ে রাজি করালেন।

বউ শ্বাশুড়ীর কথামত উপোস করে থেকে সন্ধ্যাবেলা জিমুতবাহনের পূজা করলেন আবার পুকুরের কাছে গিয়ে ছেলে হওয়ার জন্য বর চেয়ে নিল কিছুদিন পরে যথাসময়ে বউয়ের একটি সন্তান হল। এবার তার যেসব ছেলে মেয়ে হয় সব বেঁচে রইল। এই কথা চারদিকে প্রচার হতেই পৃথিবীতে জিতাষ্টমী ব্রতের প্রচার হল।

You May Like Also Also Like This

Post a Comment

0 Comments