-->

মনোরথ দ্বিতীয়া ব্রত ও মনোরথ দ্বিতীয়া ব্রত ফল । Manorath Dritiya Brata

আষাঢ় মাসের শুক্লপক্ষের দ্বিতীয়া তিথিতে এই ব্রত পালন করতে হয়। প্রত্যেকটি ব্রতের আলেদা আলেদা ফল রয়েছে। ভক্তিভরে এই ব্রত যারা পালন করে তাদের সকল মনের বাসনা পূরণ হয়। এবং দেহত্যাগের পর লক্ষ্মীনারায়ণের পাদপদ্মে তাদের স্থান হয়। নিম্নে মনোরথ দ্বিতীয়া ব্রতকথা ( Manorath Dritiya Brata) এবং ব্রতের ফলাফল শেয়ার করা হল। 

মনোরথ দ্বিতীয়া ব্রত


মনোরথ দ্বিতীয়া ব্রত


ব্রতের নিয়মঃ

আষাঢ় মাসের শুক্লপক্ষের দ্বিতীয়া তিথিতে এই ব্রত পালন করতে হয়। সারাদিন উপোষ থেকে দিনের বেলা নারায়ণ পূজা করাতে হয় কুলপুরোহিত দিয়ে। এরপর সন্ধ্যাবেলা চাঁদ উঠলে লাল বা রক্ত চন্দনে লিপ্ত জবাফুল দিয়ে চাঁদকে অর্ঘ্য প্রদান করতে হয়। তারপর ফলমূল, দুধ, মিষ্টি ইত্যাদি খেয়ে খড়ের বালিশ তৈরী করে তা মাথায় দিয়ে কম্বল আসনে শুয়ে পড়তে হয়। পরের দিন সকালে ভোজ্য ও দক্ষিণাসহ পুরোহিতকে দিয়ে দিতে হয়। এই ব্রত ধৈর্য্যের সঙ্গে পালন করতে হয়।


ব্রতকথা: 

বলাগড় দেশের রাজার নাম ছিল যাদবেন্দ্র দেব। অপরদিকে তার ঠিক পাশের রাজ্য কল্যাণগড়ের রাজা ছিল মাধব সিং। দুই রাজ্যের রাজার মধ্যে সম্পর্ক কোনো কালেই ভাল ছিলো না, যুদ্ধ-দাঙ্গা লেগেই থাকত। তবে রাজা যাদবেন্দ্র দেবের একমাত্র পুত্র শশধর-এর সঙ্গে রাজা মাধব সিং-এর একমাত্র কন্যা মাধুরীর কোনো বিবাদ ছিল না। এরা দুজন একসঙ্গে বড় হয়েছে। এমনকি বয়স বাড়ার সাথে সাথে তারা একে অপরকে ভালোও বেসে ফেলে। কিন্তু তারা বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারে না কারণ তাদের দুজনেরই বাবার মধ্যে সম্পর্ক ভাল নয়।


এইভাবে যখন দিন কাটছে তখন হঠাৎ একসময় রাজা মাধব সিং দেখলেন যে তাঁর একমাত্র কন্যা মাধুরী অসুস্থ হয়ে পড়ছে। বড় ডাক্তারকে দেখানোতেও কোনো সুফল হচ্ছে না। ডাক্তার রোগ ধরতেই পারে না। দিনে দিনে মাধুরী আরো অসুস্থ হয়ে পড়তে থাকল। তবু রাজা মাধব সিং ঘোষণা করে দিলেন যে, যে রাজকন্যা মাধুরীর রোগ সারাতে পারবে তিনি তার সঙ্গেই মাধুরীর বিয়ে দেবেন।


অপরদিকে শশধর সর্বদা মাধুরীর চিন্তাতে নিমগ্ন থাকত। প্রতিটা জিনিসের মধ্যেই সে মাধুরীকে খুঁজতে চেষ্টা করত। একদিন পূর্ণিমার রাতে তারকা খচিত আকাশের দিকে চেয়ে সে মাধুরীর কথা ভাবছিল এমন সময় সে শুনতে পেল কে যেন তাকে বলছে যে সে যেন সন্ন্যাসীর ছদ্মবেশে রাজা মাধব সিং-এর বাড়ী যায় ও বলে আসে যে সেই তার মেয়ে মাধুরীর রোগ মুক্ত করবে। তারপর বাড়ী এসে সন্ধ্যার সময় শশাঙ্ক দেবের পূজা করে সেই নির্মাল্য নিয়ে গিয়ে। মাধুরীর গলাতে পরিয়ে দিলে তাদের দু'জনের শীঘ্র মিলন হবে। আসলে অন্তরালে থেকে শশাঙ্কদেবই এই কথাগুলো বলছিলেন ও তারপর অদৃশ্য হয়ে যান। এরপর শশধর তাঁর কথা মত সমস্ত কাজ করল। সন্ন্যাসী সেজে মাধব রাজার বাড়ী গেল, ফিরে এসে নারায়ণ পূজা ও যজ্ঞাদি করার পর সন্ধ্যাকালে শশাঙ্কদেবের পূজা করল। পরদিন সেই পূজার নির্মাল্য পরিয়ে দিয়ে এল মাধুরীর গলাতে। এরফলে মাধুরীর রোগ সেরে গেল।


পূর্বের প্রতিশ্রুতি মতো রাজা মাধব সিং এই ছদ্মবেশী শশধরের সঙ্গেই মেয়ের বিয়ের সকল আয়োজন করল। তবে বরকে সাজানোর সময় নাপিত বুঝতে পারল যে সে আসলে রাজা যাদবেন্দ্র দেবের পুত্র শশধর। জানাজানি হয়ে গেল সে আসলে সন্ন্যাসী নয়, সে রাজপুত্র শশধর। তারপর রাজা মাধব সিং রাজা যাদবেন্দ্র দেবকে মন্ত্রী পাঠিয়ে নিমন্ত্রণ করে, ডেকে আনল। দীর্ঘ ঈমের বিবাদ মিটে তারা সম্পর্কের বন্ধনে আবদ্ধ হল। শশধর ও মাধুরীর মনোরথ পূরণ হল।

এরপর তারা তাদের মৃত্যুর আগের দিন পর্যন্ত অর্থাৎ যতদিন বেঁচে ছিল এই ব্রত পালন করতো এবং দিকে দিকে এই ব্রতের মাহাত্ম্য প্রচার করতো। তারপর তারা একইসঙ্গে দেহত্যাগ করার পর গোলক থেকে প্রেরিত পুষ্পরথে চড়ে তারা লক্ষ্মীনারায়ণের কাছে চলে গেল। 

মনোরথ দ্বিতীয়া ব্রতফল 

ভক্তিভরে এই ব্রত যারা পালন করে তাদের সকল মনের বাসনা পূরণ হয়। এবং দেহত্যাগের পর লক্ষ্মীনারায়ণের পাদপদ্মে তাদের স্থান হয়। সেখানে তারা সখা বা সখীরূপে দশ কল্পকাল ধরে বসবাস করতে পারে। নারী-পুরুষ সকলেই এই ব্রত পালন করতে পারে।

তথ্যসুত্র- মেয়েদের ব্রতকথা- লেখক সুরেন্দ্র নাথ ভট্টাচার্য্য সম্পাদিত ও পুরাণ ভারতী শ্রী ধনপতি হালদার সংশোধিত 

You May Like Also Also Like This

Post a Comment

0 Comments